আলিফ হোসেন, তানোর : রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী তানোর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌর মেয়র জননেতা গোলাম রাব্বানি। রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এমপি ওমর ফারুক চৌধূরীর পরবর্তী নেতৃত্ব হিসেবে গোলাম রাব্বানীকে বিবেচনা করা হয়।
জানা গেছে, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে তথা কথিত অপারেশন ‘ক্লিন হাট’-এর সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের চেনামূখের অনেক নেতা এলাকা ছাড়া হয়ে আতœগোপণ করেছিল, তবে ব্যতিক্রম ছিলেন একজন গোলাম রাব্বানি তিনি তখনও বীরদর্পে রাজনীতির মাঠে চষে বেড়িয়েছেন ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন। আবার দেশে ওয়ানইলেভেনের সময়ও বিএনপি-আওয়ামী লীগের চেনামূখ অনেক নেতা এলাকা ছাড়া হয়ে আতœগোপণ করেছিলেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম প্রতিকুল অবস্থার সময়েও গোলাম রাব্বানির আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা ছিল, তার কিছু হলে জনবিস্ফোরণ ঘটতে পারে সেই আশঙ্কায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যেও এক ধরণের ভীতি ছিল বলে তারাও রাব্বানিকে সম্মান দেখিয়ে গেছেন। অথচ চরম প্রতিকুল অবস্থার মধ্যেও গোলাম রাব্বানী এলাকায় থেকে রাজনীতির মাঠ চাঙ্গা করার পাশপাশি নেতাকর্মীদের আগলে রাখেন ও এলাকায় চরদলীয় জোট সরকারে বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দেন। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা এখানো রাজশাহী শহরে বসবাস করে ব্যক্তিগত কাজ ছাড়া তেমন নিয়মিত এলাকায় যাতায়াত করেন না নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখারও প্রয়োজন মনে করেন না। অথচ ব্যতিক্রম গোলাম রাব্বানী তিনি এখানো গ্রামের বাড়িতে বসবাস করেন ও নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তিনি এক টানা প্রায় ২০ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনেক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও তাঁর অর্থলিপসা না থাকায় তিনি সেই পথে পা বাড়াননি। এমনকি তার পরে রাজনীতিতে এসে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক হাইব্রিড নেতা কোটি কোটি টাকার সম্পদ আহরণ করেছেন, কিšত্ত রাব্বানি এখানো শহরে একটি বাড়ি নির্মাণ করতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে গোলাম রাব্বানি বলেন,তিনি তার পূর্ব পুরুষদের অনুসরণ করে রাজনীতি করেন। তিনি বলেন, অবৈধ পথে বিত্তশীল হয়ে নয় সাধারণ মানুষের কাজ করে সাধারণ মানুষের মাঘে তিনি বেচে থাকতে চান সেই প্রত্যয় ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করেই তিনি এখানো রাজনীতি করে চরেছেন। এসব বিবেচনায় এমপি ফারুক চৌধূরীর পরবর্তী নেতৃত্ব হিসেবে গোলাম রাব্বানিকে বিবেচনা করা হয়।
রাজশাহী তথা বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্যতম রাজনৈতিক সচেতন ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে গোলাম রাব্বানির জন্ম এবং বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। ব্রিটিশ আমল থেকে এখানো গোলাম রাব্বানির পরিবারের কেউ না কেউ জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গোলাম রাব্বানির দাদা প্রয়াত হাজী কবির উদ্দীন মন্ডল পঞ্চায়েত প্রধান ও ইউপি প্রেসিডেন্ট হিসেবে এক টানা প্রায় ৩৫ বছর নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার হাত ধরেই তার পুত্র প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোহাম্মদ আলী মাহাম পাচন্দর ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ও ৭৫ থেকে ৯২ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রায় সাড়ে ৮ একর সম্পত্তি দান করে ফুটবল মাঠ তৈরী ও সাড়ে ৩ একর সম্পত্তি দান করে সেখানে একটি প্রাথমিক ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেছেন। আবার কলমা ইউপির কন্দপুরে তিন একর জমি দান করে কন্দপুর স্কুল নির্মাণ করেছেন। তার হাত ধরেই তার সুযোগ্য পুত্র গোলাম রাব্বানী দু’বার পাচন্দর ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং পরবর্তীতে দু’বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়ে এখানো দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তিনিও প্রায় সাড়ে ৩ একর সম্পত্তি দান করে সেখানে প্রকাশ আদর্শ গ্রাম করেছেন। এছাড়াও তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে রাজশাহী জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বপালন করেছেন। তিনি ছাত্র জীবনে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তানোর-গোদাগাড়ীর রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত নাম গোলামা রাব্বানি, দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে তিনি ‘রাব্বানি ভাই’ বলে পরিচিত, সবার কাছে তিনি একজন সৎ নেতা ও রাজনীতিকের প্রতিকৃতি, এই অঞ্চলের মানুষ রাজনীতিতে সৎ নেতার উদাহারণ দিতে গিয়ে সবার আগে গোলাম রাব্বানির নামটি উচ্চারণ করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি যেমন বিলাস বিমূখ সাদামাটা, তেমনি কর্মী ও জনবান্ধব রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও সর্ব মহলে প্রশংসিত। তাঁর কার্যালয় বা বাড়িতে গিয়ে অন্তত্ব এক কাপ চা পান করেননি এলাকায় এরকম একজন মানুষকেও খুঁজে পাওয়া দুঃস্কর। আবার বিভিন্ন আবদার নিয়ে তার কাছে গিয়ে তার আচরণে দুঃখ-কষ্ট পেয়েছেন এমন এক জনকেও খুজে পাওয়া যাবে না। এমনকি বিরোধীমতের রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকরা ‘রাব্বানি’ ভাই সম্বোধন করে খুব সহজেই তার কাছে গিয়ে যে কোনো সমস্যা তুলে ধরে সহযোগীতা চাইতে পারেন। রাব্বানি এখনও তার নেতৃত্বের গুণে সফল নেতা হিসাবে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে সমান জনপ্রিয়। এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরা এখনো তকেই তাদের প্রতিনিধি মনে করেন এবং তাদের যে কোনো সমস্যায় ছুটে আসেন তাঁর কাছেই। সমস্যার সমাধান পাওয়া না পাওয়া বড় কথা নয়, কিšতু রাব্বানি তাদের কথা শুনেন, চেস্টা করে সেটা পুরুণের না পারলেও কখনো কউকে কস্ট দিয়ে কথা বলেন না বরং নিজে না পারলেও পথ দেখিয়ে দেন। রাব্বানি দলের একজন পরীক্ষিত নেতা। উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড যেখানেই তিনি যান সেখানেই সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে মিশে যান। তিনি তাদেরই প্রতিনিধি হিসাবে শোনেন সুখ-দুঃখ ও বঞ্চনার কথা। রাব্বানির মতে তৃণমুল নেতাকর্মীরাই আওয়ামী লীগের প্রাণ। তারা সুবিধা পেতে দৌড়ে যান না বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভরসাও তারাই। কর্মী-জনবান্ধব, প্রবীণ, ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক নেতা গোলাম রাব্বানি এমপি ফারুক চৌধূরীর পরবর্তী নেতৃত্ব হিসেবে পরিচিত। এমপি ফারুক চৌধূরীর পরে এই এলাকার মানুষ
খোজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলে আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে রাব্বানির আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা রয়েছে। গোলাম রাব্বানী গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে থেকেছেন সামনের সারিতে দিয়েছেন সফল নেতৃত্ব। দল ও জনগণের অধিকার রক্ষার তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ, কর্মী, জনবান্ধব, পরীক্ষিত ও লড়াকু সৈনিক। দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারায় থাকলেও এবং অর্থ উপার্জনের অনেক সুযোগ থাকার পরেও অবৈধ অর্থের মোহে বা লোভ-লালসার স্রোতে গা ভাসিয়ে দেননি। তিনি তৃণমুল নেতাকর্মীদের সঙ্গে থেকে এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন সংগ্রাম। এই সংগ্রাম রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন সূচনার সংগ্রাম। তিনি আওয়ামী লীগকে অর্থ নয় মেধার কাছে জিম্মি রাখতে চান। রাব্বানী বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের উন্নয়ন ধারাকে এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে নিয়ে নিরলস ভাবে কাজ করতে চান। বিপুল জনসমর্থন ও জনপ্রিয়তা থাকলেও তিনি আওয়ামী লীগের নাপিত নির্ভর এক বগি নেতার বির্তকিত বিভিন্ন কর্মকান্ডের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ও তৃণমূলের চাপে নিজে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে অনেকটা দুরে রয়েছেন। তৃণমূলের অভিমত গোলাম রাব্বানি যতি এমপি ফারুক চৌধূরীর সঙ্গে রাজনীতির মাঠে থাকতেন তাহলে আওয়ামী লীগের কর্মকান্ড আরো জোরদার ও গতিশীল হতে পারতো। তৃণমূল জনপ্রিয় এই দুই রাজনৈতিক নেতাকে একই সঙ্গে রাজনীতির মাঠে দেখার অধির অপেক্ষায় রয়েছে। এব্যাপারে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শরীফ খাঁন বলেন, নাপিত নির্ভর এক বগি নেতার কারণে শুধু রাব্বানি নয় আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগী ও জৈষ্ঠ নেতা আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে নিজেদের দুরে রেখেছে।
তানোর প্রতিনিধি
তাং-১৬ নভেম্বর ২০১৭
মো-০১৭১১-৪১৭৪৬৬
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ : ভূমিমন্ত্রীর সংবাদ বর্জনের ঘোষণা
- » তানোরে একটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে দায় নিবে কে ?
- » তানোরে আলু চাষের ধূম
- » স্বর্ণ ব্যবসায়ী যখন ভূমিদূস্যু
- » রাজশাহী অঞ্চলে জঙ্গি উঙ্খান অভিযোগের তীর সাবেক মন্ত্রীর দিকে ?
- » প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে !
- » তানোর বিএমডিএ’র ইঁদুর-বেড়াল খেলা
- » ব্যারিস্টারের গলার কাঁটা শাহিন
- » তানোরে ময়না ক্যাবল নেওয়ার্কের উদ্বোধন
- » তানোরে সাঁওতাল পল্লীতে বিনামূল্য স্যানেটিশন সামগ্রী বিতরণ










Leave a Reply