আলিফ হোসেন,তানোর: রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসনের নির্বাচিত সাংসদ ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধূরীর প্রচেস্টায় নির্বাচনী এলাকা তথা বরেন্দ্র অঞ্চলে গ্রামীণ জনপদ তাঁর নিজস্ব হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে শুরু করেছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে এক সময় গ্রামবাংলার দিগন্তজোড়া খোলা মাঠ আর পথে-প্রান্তরে হরহামেশাই চোখে পড়ত হা-ডুডু, কাঁনামাছি, বদন, ফুটবল, নৌকা বাইচ ও দাঁড়িয়াবান্ধাসহ বিচিত্র সব গ্রামীণ খেলার আনন্দঘন দৃশ্যে। এছাড়াও বিনোদনের জন্য আলকাপ গান, কবি গান ও পালা গান ইত্যাদি ছিল গ্রামীণ জনপদের মানুষের চিত্তবিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। কিšত্ত নব্বই দশক থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদের মানুষের চিত্তবিনোদনের এসব আয়োজন ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। আধূনিকতার করালগ্রাস আর যান্ত্রিক সভ্যতার কাছে এসব বিলুপ্তপ্রায়। ফলে স্যাটালাইট কালচারের এই সময়ে গ্রামীণ খেলাধুলা ও গান-বাজনা বর্তমান প্রজন্মের কাছে অতীত স্মৃতি হয়ে উঠে। আধূনিকতার নামে এসবের পরিবর্তে ক্যারম জুয়া, তাস, ক্রিকেট জুয়া, ভিসিআর-ভিসিডি ও যাত্রা পালার নামে অশ্লীল নৃত্যর পাশপাশি মাদকে জড়িয়ে পড়ে যুব সমাজ। অথচ এসব গ্রামীণ খেলাধুলা আমাদের জাতীয় জীবনে নিজস্ব জাতিসত্তা, জীবনধারা, কৃষ্টি, কালচার ও ঐতিহ্যের এক সমৃদ্ধ পরিচয় তুলে ধরে। কিšত্ত আধূনিকতার নামে গ্রামীন জনপদ নিজস্ব ঐতিহ্য হারায়, বদলে যায় মানুষের জীবনধারা, বদলে যায় গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা পুরনো ঐতিহ্য। মায়ের ঘুম পাড়ানি গান, কবিগান আর রাঁখালের বাঁশির সুর সবই যেন অচেনা-অজানা হয়ে উঠে হা-ডু-ডু, ডাংগুলি, কানামাছি ভোঁভোঁ, লাটিম, এক্কা-দোক্কাসহ বিভিন্ন গ্রামীণ খেলা-ধুলা ভুলে যায় গ্রামের ছেলে-মেয়েরা। এসবের পরিবর্তে গ্রামীণ জনপদের সিংহভাগ যুবসমাজ অশ্লীলতা, মাদক সেবনসহ জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে বিষয়টি ভাবিয়ে তোলে এই অঞ্চলের হাজারো অভিাভবক ও সচেতন মহলকে। কিšত্ত এ থেকে পরিত্রাণের উদ্যোগ নিয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ ওমর ফারুক চৌধূরী শহীদ পরিবারের সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, সৃষ্টিশীল ও মননশীল এবং অত্যন্ত রাজনৈতিক দূরদর্শীতা সম্পন্ন কর্মী-জনবান্ধব রাজনৈতিক নেতা হওয়ায় তাকে বিষয়টি ভাবিয়ে তুলে। বিগত ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হবার পরপরই তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় যাত্রা-সার্কাস ও ভ্যারাইটি-শোর নামে সব ধরণের অশ্লীল কার্যকলাম বন্ধ ঘোষণা করে তাস, ক্রিকেট জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে এসব প্রতিহত করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ও চিত্তবিনোদনের জন্য সুস্থ-রুচিশীল কর্মকান্ড জোরদার করে সকলকে এসব কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হবার আহবান জানান। তাঁর প্রচেস্টায় ধীরে ধীরে ফিরে আসতে শুরু করে গ্রামীণ জনপদের হারানো ঐতিহ্য। তাঁর দিকনির্দেশার সবের মধ্যে রয়েছে, বৈশাখী মেলা, বইমেলা, স্কুল বিতর্ক, নবান্ন উৎসব, আলকাপ, কবি ও পালাগান, মুক্তিযুদ্ধের চিত্র প্রদশর্নী, একুশে ফেব্ররুয়ারী ও স্বাধীনতা দিবস ইত্যাদি উদযাপন। এছাড়াও স্কুল-কলেজ ও পাড়া মহল্লায় ফুটবল, ক্রিকেট ও হা-ডুডু খেলার প্রচলন এবং এলাকা ভিত্তিক নৌকা বাইচ, ঘোড়া দৌড়, মাছ শিকার ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন ইত্যাদি। এমপি ওমর ফারুক টৌধূরীর প্রচেস্টায় তার নির্বাচনী এলাকায় গ্রামীণ জনপদ তার হারোনো ঐতিহ্য ফিরে পেতে শুরু করেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ : ভূমিমন্ত্রীর সংবাদ বর্জনের ঘোষণা
- » তানোরে একটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে দায় নিবে কে ?
- » তানোরে আলু চাষের ধূম
- » স্বর্ণ ব্যবসায়ী যখন ভূমিদূস্যু
- » রাজশাহী অঞ্চলে জঙ্গি উঙ্খান অভিযোগের তীর সাবেক মন্ত্রীর দিকে ?
- » প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে !
- » তানোর বিএমডিএ’র ইঁদুর-বেড়াল খেলা
- » ব্যারিস্টারের গলার কাঁটা শাহিন
- » তানোরে ময়না ক্যাবল নেওয়ার্কের উদ্বোধন
- » তানোরে সাঁওতাল পল্লীতে বিনামূল্য স্যানেটিশন সামগ্রী বিতরণ










Leave a Reply