তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোরে ছোটদের পরীক্ষায় নকলে বড়রা (শিক্ষক-অভিভাবক) সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে নকলের আশায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও লেখাপড়া করতে ভূলে গেছে। এতে শিক্ষার্থীরা হয়ে পড়ছে মেধা শূণ্য। অন্যদিকে যে স্কুল নকলে পারদর্শী সেই স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা থাকে অনেক বেশি। জানা গেছে চলতি বছরের ১লা নভেম্বর শুরু হয়েছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও দাখিল জুনিয়র সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫ টি কেন্দ্রে। সম্প্রতি তালন্দ এএম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নকল সরবরহের দায়ে বহিরাগত তিন শিক্ষার্থীকে এক মাসের জেল ও ৫ শিক্ষককে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে অব্যাহতি দেয়া হয়। অভিভাবকগণ জানান, প্রায় প্রতিবছরই নকলের অভিযোগ উঠলেও এবার ব্যতিক্রম পরীক্ষাকেন্দ্রে যেনো হয়ে উঠছে নকলের হাট, যে যেমন পারছে নকলে সহায়তা করছে কেউ পিছিয়ে নাই।
জানা গেছে, তানোরে জেএসসির ৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবার জন্যে ৩ হাজার ১২৩ জন শিক্ষার্থী ফরম পুরুন করলেও প্রথম পরীক্ষা থেকে শতাধিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেন নি। বেশকিছু পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায় প্রথম পরীক্ষায় কিছুটা কড়াকড়ি নিয়ম থাকলেও পরের দিন থেকে শিথিল হয়ে পড়ে পরীক্ষার পরিবেশ । এক ঘন্টা মত নিয়ম সঠিক চললেও পরে থেকে নকলের শেষ থাকেনা । যে সব শিক্ষকরা ডিউটি করেন তারাই গেটে দাঁড়িয়ে পরীক্ষার্থীদের নকলে সহায়তা করেন। এমনকি নৈর্ব্যৃক্তিকের কপি শিক্ষকরাই সরবরাহ করে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, দেহ তল্লাশি না করে পরীক্ষার্থীদের ভিতরে নকল নিয়ে প্রবেশ করার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। নিয়ম রয়েছে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর দেহ তল্লাসি করে কেন্দ্রে প্রবেশ করাতে হবে। পরীক্ষার্থীরাও আসেন শুরুর কয়েক মিনিট আগে যাতে তল্লাশির খপ্পর থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আবার যে সব স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে কেন্দ্রের স্কুলের সে সব স্কুলের পরীক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা দেয়া হয় প্রচুর। অপর দিকে যাদের সঙ্গে তেমন সংখ্যতা নেই তাদের পরীক্ষার্থীদেরকে সে সুযোগ দেয়া হয় না । পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রাইভেট শিক্ষক ও কোচিং শিক্ষকদের রয়েছে আধিক্য। ফলাফল ভালো হলেই পুরো অর্জন তাদের । ফলাফল ভালো করতে চাইলে প্রাইভেট কোচিং করতেই হবে। কোন স্কুলের বা কলেজের শিক্ষক না তেমন এক প্রাইভেট কোচিং পড়ানো ব্যাক্তি জানান এখন পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরব নকল বিপ্লব চলছে। কারন স্কুলের ইংরেজী অংক বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকরা তাদের ছাত্রদের নিজেরাই প্রাইভেট পড়াতে নানা মুখি চাপ প্রয়োগ করেন । বাধ্য হয়ে ছাত্ররা প্রাইভেট পড়েন নিজ শিক্ষকদের কাছে। প্রাইভেট হোক কোচিং হোক কেন্দ্রে সুযোগ পেতে হলে না পড়ে উপায় নেই। কেন্দ্রে এসকল শিক্ষরাই ডিউটি দিয়ে থাকেন । নিজ বিষয়ের পরীক্ষার দিন ডিউটি না পড়লেও বাহির থেকেই চালিয়ে যান সব কিছু । এসব কারনেই মুলত নকল মুক্ত হচ্ছেনা । যার স্বীকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও । এসব পরীক্ষায় নকল দূর করতে হলে বিশেষ টিম নামাতে হবে ব্যাপক হারে । নিয়োমিত টিম থাকতে হবে কেন্দ্রে । আর এসব ঘটনা সরেজমিন তদন্ত করলেই বেরিয়ে পড়বে অনেক কিছু । এদিকে জেডিসি ও কারিগরি কলেজের ভোকেশনাল নবম শ্রেনীর ফাইনাল পরীক্ষাতে নকল চলে বেপরোয়া । ভোকেশনাল স্কুলে বাস্তবসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা না থাকার কারনে নকলের ছাড়াছড়ি বলে একাধিক সুত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে । মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম বলেন আমরা কেন্দ্রে থাকা কালিন নকলের প্রশ্নই উঠেনা । তবে নকলমুক্ত পরিবেশেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে । এবারে তালন্দ কেন্দ্রে একটি অঘটন ঘটে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে । এ ব্যাবারে পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাঃ শওকাত আলীর ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন দেয়া হলে রিসিভ করেননি তিনি। #
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ : ভূমিমন্ত্রীর সংবাদ বর্জনের ঘোষণা
- » তানোরে একটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে দায় নিবে কে ?
- » তানোরে আলু চাষের ধূম
- » স্বর্ণ ব্যবসায়ী যখন ভূমিদূস্যু
- » রাজশাহী অঞ্চলে জঙ্গি উঙ্খান অভিযোগের তীর সাবেক মন্ত্রীর দিকে ?
- » প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে !
- » তানোর বিএমডিএ’র ইঁদুর-বেড়াল খেলা
- » ব্যারিস্টারের গলার কাঁটা শাহিন
- » তানোরে ময়না ক্যাবল নেওয়ার্কের উদ্বোধন
- » তানোরে সাঁওতাল পল্লীতে বিনামূল্য স্যানেটিশন সামগ্রী বিতরণ










Leave a Reply