ProTv Bangla News মোঃ লিহাজ উদ্দীন মানিক, প্রতিনিধি, পঞ্চগড় ঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অব্যাহত ধর্ষণ ও তা ভিডিও ধারণ করে দুই ধর্ষকের ব্যাকমেইলের শিকার হয়ে রহিমা আক্তার সোনিয়া (১৪) নামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও এলাকায় প্রতিবাদের ঝড় উঠে। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে নানা নাটকীয়তার পর ঘটনার চার দিন পর অবশেষে গত শনিবার সকালে সোনিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তেঁতুলিয়া থানা পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে। সোনিয়ার মা সেলিনা বেগম বাদি হয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ওয়ার্ড বয় ও তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের মোমিনপাড়া এলাকার মৃত সোলেমান আলীর ছেলে মনসুর আলম রাজন (৩২) এবং ক্ষণিয়াভিটা এলাকার বাসির উদ্দিনের ছেলে ও তেঁতুলিয়া বাজারের বিক্যাশ এজেন্ট আতিকুর রহমান আতিককে (৩৪) আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ এর ক ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই দুই ধর্ষক মনসুর আলম রাজন ও আতিকুর রহমান আতিক পলাতক রয়েছে। উল্লেখ্য, তেঁতুলিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ও উপজেলার কালারাম জোত গ্রামের পাথর শ্রমিক জাহেরুল ইসলামের কন্যা রহিমা আক্তার সোনিয়া। অসুস্থ্য মায়ের ঔষুধ নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তেতুঁলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয় রাজন সোনিয়াকে তার বন্ধু আতিকের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে রাজন ও পরে আতিক তাকে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সেই ভিডিও ফুটেজ প্রচার করা ও কাউকে জানালে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে গত তিন মাস থেকে তারা সোনিয়াকে ধর্ষণ করে আসছে। গত ৯ অক্টোবর সোনিয়া ঘটনাটি তার মা ও মামাকে জানায়। সোনিয়ার মা সেলিনা বেগম ও মামা ফারুক ধর্ষকদের সাথে কথা বলে। সোনিয়া বিষয়টি মা ও মামার কাছে প্রকাশ করায় রাজন ও আতিক মোবাইল ফোনে সোনিয়াকে অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ প্রচারের ভয় দেখায় এবং নানা রকম হুমকি দিতে থাকে। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে অবশেষে গত ১০ অক্টোবর আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয় সোনিয়া। সদা হাসিখুশি সোনিয়ার আত্মহত্যায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সোনিয়ার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিরা। ঘটনার পর থেকেই ধর্ষক রাজন এবং আতিকের গ্রেফতারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সোচ্ছার হয় স্থানীয়রা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মামলা নিতে গড়িমসি করছিল পুলিশ। সোনিয়ার মামা ফারুক হোসেন জানান, আমরা গত কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়া থানায় মামলা করার জন্য যাচ্ছি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে পুলিশ মামলা না নিয়ে আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছে। অবশেষে শনিবার সকালে মামলটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এখন আমাদের একটা দাবি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। সোনিয়ার মা সেলিনা বেগম জানান, আমি আর কিছু চাই না। যারা আমার মেয়েকে নির্যাতন করেছে। যাদের জন্য আমার ফুলের মতো মেয়েটা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে আমি তাদের এমন বিচার চাই যাতে আর কারো মেয়েকে এভাবে মরতে না হয়।
তেঁতুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেস চন্দ্র জানান, ওই স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যার পর তার লাশ ময়নাতদšেরÍ শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনার দিনই আমরা একটি অপমৃত্যু মামলা করেছি। মামলার তদন্তকালীন আমরা জানতে পারি ওই স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে রাজন ও আতিক। পরে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা একটি নিয়মিত মামলা করি। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » বোদায় ১ মেয়র সহ ৯ জনের মনোনয়ন বাতিল
- » বোদায় গৃহবধূর রহস্য জনক মৃত্যু, আটক ১
- » বোদা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল
- » বোদায় নৌকা প্রতিক পেলেন এ্যাডঃ ওয়াহিদুজ্জামান সুজা
- » বোদায় ধানের শীষ প্রতীক হকিকুল ইসলাম পাওয়ায় ভোটারা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হিসেব নিকেশ করছে
- » ৭মার্চ ভাষণে ইউনেষ্কো স্বীকৃতি পাওয়ায় পঞ্চগড়ে আনন্দ শোভাযাত্রা
- » বেগম জিয়ার মিশন এবার রংপুর
- » ভুরুঙ্গামারীতে ট্রাকের ধাক্কায় যুবলীগ নেতার মৃত্যু
- » ৭মার্চ ভাষণে ইউনেষ্কো স্বীকৃতি পাওয়ায় পঞ্চগড়ে আনন্দ শোভাযাত্রা
- » অযতœ অবহেলায় বোদার ঢাপঢুপ বধ্যভূমি স্বাধীনতার ৪৬ বছরে অনেকে বেঁচে আছে শরীরের ক্ষত চিহৃ নিয়ে ঢাপঢুপ বধ্যভূমির হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষকে শিউরিত করে










Leave a Reply