,

অযতœ অবহেলায় বোদার ঢাপঢুপ বধ্যভূমি স্বাধীনতার ৪৬ বছরে অনেকে বেঁচে আছে শরীরের ক্ষত চিহৃ নিয়ে ঢাপঢুপ বধ্যভূমির হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষকে শিউরিত করে

মোঃ লিহাজ উদ্দীন মানিক, প্রতিনিধি, পঞ্চগড় ঃ প্রতি বছরই বিভিন্ন দিবসে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের ঢাপঢুপ বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন অনেকে। অনেক প্রতিশ্রুতি দেন অতিথিরা। চলে গেলে তা আবার ভুলেও যান। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে অযতেœ আর অবহেলায় পড়ে আছে বধ্যভুূমিটি। সরজমিনে দেখা গেছে, বধ্যভূমির চারপাশের ময়লা আবর্জনা, গাছের পাতা ও গরু-ছাগলের মরমূত্র ত্যাগ। দেশের বধ্যভূমিগুলো যখন সরকার খুঁজে বের করে সংস্কার ও কমপ্লেক্স নির্মাণ করছে তখন বোদার একমাত্র বধ্যভূমিটি অযন্ত অবহেলায় পড়ে আছে। সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সারোয়ার আলম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রহমান বি.এস.সি সহ এলকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা প্রথম ঢাপঢুপ বধ্যভূমি চিহ্নিত করেণ। পরে তারা অস্থায়ী ভারে কলাগাছ দিয়ে স্মৃতিসৌধ্য তৈরি করে প্রথম বার ২১ শে ফেব্রুয়ারী শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেণ। জানা গেছে, ১৯৭১ সাল। দিনটি ছিল ৯ বৈশাখ শুক্রবার এপ্রিলের মাঝা মাঝি। পাকিস্তানী আগ্রাসনের ভয়ে বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের ঢাপঢুপ বিলের পাড়ে ইসলামপুর গ্রামের আমবাগানে এসে সমবেত হয়েছিল ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুরের-বীরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার সংখ্যালঘু পরিবার। তারা প্রাণ ভয়ে ঘর-বাড়ী ফেলে পরিবার পরিজন নিয়ে ওই স্থানে সমবেত হয়। উদ্দেশ্য ওই পথে ভারতে পাড়ি জমাবে নিরাপদ আশ্রয়ের আশায়। কিন্তু পাকিস্তানী হানাদারদের দোসর এ দেশীয় হায়েনাদের হিংস্র থাবায় এক নির্মিষের হত্যাযজ্ঞে নিভে গেছে কয়েক হাজার নিরীহ নিরস্ত্র নিরপরাধ মানুষের প্রাণ। কাউকে গুলি, আবার কাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও খুঁচিয়ে নির্মম ভাবে হত্যার পর বিলে নিক্ষেপ করে। সেই সময় বিলের জল আর রক্তে মিশে লাল হয়েছিল। স্বাধীনতার এতকাল পরও এলাকার মানুষের কাছে বিভিষিকাময় নাম হিসেবে চিহিৃত হয়ে আছে ঢাপঢুপ বধ্যভুমি। ওই স্থানে নিরপরাধ কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন, দেড় থেকে দুই হাজার মানুষকে গণহত্যা করে ঢাপঢুপ বিলে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এখনও চাষাবাদের সময় মাটি থেকে বেরিয়ে আসে মানুষের হাড়গোড়। সেইদিন হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া এদের মধ্যে ক’জন শরীরে ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের চিহৃ নিয়ে এখনও বেঁচে আছে। সে দিনের সেই ভয়াল স্মৃতি নিয়ে যে ক’জন এখনও বেঁচে আছেন কালের অঘোম নিয়মে হয়তো একদিন তারাও এ পৃথিবী থেকে চলে যাবে। এদের মৃত্যুর সাথে-সাথে হয়তো মুছে যাবে ঢাপঢুপ বিলের সংঘটিত লোমহর্ষক হত্যা কান্ডের ইতিহাস। জানা যাবে না ঢাপঢুপ বিলে কত নিরপরাধ মানুষ ঘাতকের হাতে সে দিন আত্মহুতি দিয়েছিল, জানা যাবে না কারাছিল এই গণহত্যার নায়ক। যারা সেদিন চাক্ষুস করেছিল ঘটনাটি তারা সেই গল্প বলতে বলতে শিউরে উঠছিল বার বার। ঢাপঢুপ বিলের ৫ শত গজ দক্ষিণে শুখানপুখুরি গ্রাম, যা বর্তমানে বিধবা পল্ল¬¬¬¬ী বা বিধবা গ্রাম হিসেবে সমধিক পরিচিত। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথমার্ধে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা ওই গ্রামের কোন পুরুষকে জীবিত রাখেননি। বেঁচে ছিল শুধু তাদের স্ত্রী ও ছোট শিশুরা। পুরুষদের সবাইকে সে দিন হত্যা করে ঢাপঢুপ বিলে নিক্ষেপ করেছে। সেই দিনের হত্যাযজ্ঞ থেকে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে ঘাতকের চিহৃ নিয়ে এখনও বেঁচে আছেন ওই এলাকার সপেন (৭৮)। তার ঘাঁড়ে ও মাথায় ঘাতকদের আঘাতের চিহৃ এখনও জ্বলজ্বল করছে। স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও ঢাপঢুপ বিলে সরকারি ভাবে স্মৃতিসৌধ্য নির্মান করা হয়নি। সাবেক পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক বনমালী ভৌমিক এর উদ্যোগে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদানে ঢাপঢুপ বিলের বধ্যভুমিতে স্মৃতিসৌধ্য নির্মাণ করেণ। এলাকাবাসির দাবি বধ্যভূমির স্থানটিতে একটি কমপ্লেকক্স ও আধুনিক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরি করা। যতোদিন বাংলাদেশ থাকবে ততোদিন এই বোদার ঢাপঢুপ বধ্যভূমিতে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি হাজার বছর বেচেঁ থাকবে।

Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



  • উপদেষ্টাঃ-   মো: হুমায়ন কবির (বাংলা লেকচারার)
  • চেয়ারম্যান :- প্রিয়া জামান সীমা
  • ব্যাবস্থাপনা পরিচালক :- জহিরুল হক ( জহির)
  • সম্পাদক ও প্রকাশক –  সাজ্জাদুর রহমান (মিলন)

 

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : কোপারেটিভ মার্কেট ২তলা /

মিরপুর-১ ঢাকা-১২১৬,বাংলাদেশ।

মোবাইল : ০১৭৬৭৪১৪৭৯৯,০১৭১০০৪৭৭৭৩.

Email – www.protvbangla@gmail.com

           www.protvmediabd@gmail.com

               

Design & Developed BY zahidit.com