আলিফ হোসেন,তানোর: রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসনের সাংসদ ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধূরীর বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা করেও তৃণমূলের কাছে থেকে তেমন কোনো সাড়া না পেয়ে এবং তাঁর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে ব্যর্থ এবার তারা রণেভঙ্গ দিয়েছে। এতে এমপিবিরোধী শিবিরে নেমে এসেছে অমবশ্যার ঘোর অন্ধকার চোখেমূখে ফুটে উঠেছে হতাশার চিত্র। ফলে এমপিবিরোধীরা নানা ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা এবং সংগঠনবিরোধী নানা কর্মকান্ড করেও এমপি ফারুকের জনপ্রিয়তার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবীণ-ত্যাগী-নিবেদিতপ্রাণ, কর্মী ও জনবান্ধব নেতা এমপি ফারুক চৌধূরীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে গিয়ে তারা বার বার ব্যর্থ ও তাঁর জনপ্রিয়তার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে। একদিকে এমপিবিরোধী এসব অপতৎপরতার কারণে তৃণমূল তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে তৃণমূলে এমপির জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে এমপিবিরোধীদের গণধাওয়া খাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের জনবিচ্ছিন্ন এসব বগি নেতার এমপিবিরোধী ষড়যন্ত্রের খবর ছড়িয়ে পড়লে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। ফলে ষড়যন্ত্রকারীদের পায়ের নিচের মাটি সরে যেতে শুরু করেছে তাদের এখন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে রাজনীতি থেকে নির্বাসনে যাবার উপক্রম হয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এখন তারা প্রায় একা হয়ে পড়েছেন। দলের প্রবীণ-ত্যাগী-নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা তাদের ওপর থেকে মূখ ফিরিয়ে নিয়েছে,পাশপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও তাদের ত্যাগ করেছে, ফলে রাজনীতিতে এখন তাদের টিকে থাকায় কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর না পারছেন এমপির কাছে আসতে না পারছেন রাজনীতির মাঠে নামতে “শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ অবস্থায় এখন তারা রাজনীতি থেকে ঝরে পড়তে শুরু করেছে। এদিকে সাধারণ মানুষ বুঝতে শিখেছে যাদের ইউপি সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্যতা নাই অথচ তাঁরা এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে প্রচার করছে কিশের আশায় বা মাযে যা টা কি ?। আসলে তারা জামায়াত-বিএনপির কাছে থেকে বড় অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের বি-টিম হয়ে কাজ করছে। তাদের উদ্দেশ্যে একটাই যেকোনো মূল্য এমপি ফারুক চৌধূরীর বিজয় ঠেকাতে হবে। কিšত্ত এমপি ফারুক বগি নেতাদের এসব টক্রান্ত-ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে তৃণমূলের সঙ্গে জন-সম্পৃক্ততা আরো গভীর করে প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলেছে।
জানা গেছে রাজশাহী-১ আসনটি বরাবরের মতই জামাত-বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও ফারুক চৌধুরী সংসদ হবার পর থেকে বদলে যেতে থেকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তার রাজনৈতিক দূরদর্শীতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কাছে তছনছ হয়ে যায় বিএনপি-জামাতের ঘাটি হিসেবে পরিচিত তানোর গোদাগাড়ীর রাজনৈতিক অঙ্গন। রাজশাহী-১ নির্বাচনী এলাকায় ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে বিএনপি-জামায়াত। তবে সিংহভাগ আধিপত্য থাকে বিএনপির কব্জায়। দীর্ঘ সময় একক আধিপত্য করেছে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হক । স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে ছিল তার নেতৃত্বে বিএনপির আধিপত্য। সেই আধিপত্য ভেঙ্গে দেন সাংসদ ফারুক চৌধুরী। ৯০ দশকের দিকে এ অঞ্চলে আওয়ামী লীগ ছিল নামে মাত্র। ২০০১ সালে নির্বাচনে আসেন ফারুক চৌধুরী এবং ।২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও জনমত গড়ে এলাকা ছুটে চলেন একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রাপ্ত সব প্রান্তেই ছিল তার সরব উপস্থিতি বা বিচরণ। রাজশাহী আওয়ামী লীগের রাজনীতির ইতিহাসে নতুন সৃষ্টি করে তানোরে এই প্রথম ৭টি ইউপিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে সক্ষম হন। তিনি প্রতিটি মুহূর্ত তৃনমূলে থাকেন বলেই এখানো তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি।
চলতি বছরের ১৮ নভেম্বর শনিবার সাংসদের বিরুদ্ধে ৭ জন এমপি মনোনায়ন প্রত্যাশী একমঞ্চে নৌকার মাঝি পাল্টানোর দাবি জানিয়ে সাংসদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও কল্পকাহিনী তুলে ধরেন। কিšত্ত তৃণমূলে বিন্দুমাত্র সাড়া ফেলতে ব্যর্থ হয়। এদিকে ১৯ নভেম্বর রোববারে গোদাগাড়ী ও পরেরদিন সোমবারে কাঁকনহাট আওয়ামী মহিলা লীগের সভা অনুষ্ঠিত হয় সেখানে মহিলাদের বিপুল উপস্থিতি স্বরণকালের সর্ববৃহত সমাবেশে পরিণত হয়। আর এতেই ভূল ভাঙ্গে বগি নেতাদের তাদের সব প্রচেস্টা উবে যায়। একাধিক সিনিয়র নেতা জানান গত শনিবার গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট বালিকা বিদ্যালয় মাঠে নৌকায় ভোট দিন ব্যানারে ৭ মনোনায়ন প্রত্যাশীরা সভা করে সাংসদের বিরুদ্ধে নানান মিথ্যা অভিযোগ তুলেন। তারা বলেন, জনসাধারণের মাঝে ভিত্তিহীন অভিযোগ না তুলে দলীয় ফোরামে তুলতে পারতেন। দলের মধ্যে বিভেদ থাকতে পারে তাই বলে প্রকাশ্য দিবালোকে সভার মাধ্যমে অভিযোগ তুলা মানেই বিরোধীদের খোরাক জুগানো ছাড়া কিছুই না। তাঁরা যদি দলীয় আদর্শকে মেনেই চলেন তাহলে দলীয় ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারতেন। অথচ তারাই নাকি প্রকৃত ও আদর্শিক আওয়ামী লীগ আসলে গাঁয়ে মানে না আমি মোড়ল সেই অবস্থা আর কি ?। এব্যাপারে তানোর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও কলমা ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না জানান আওয়ামী লীগ বৃহত্তর রাজনৈতিক দল দীর্ঘ দিন থেকে ক্ষমতায় আছে যে কেউ মনোনায়ন চাইতেই পারেন। কিন্তু ৭ জন মনোনায়ন প্রত্যাশী একমঞ্চে এসে দাবি তুলছেন ফারক চৌধুরী বাদে যাকে নাকি মনোনায়ন দেয়া হবে তাদের কোন আপত্তি থাকবেনা। এভাবে মনোনায়নের দাবি তুলা প্রথম শুনলাম। তাদের কে ভাবতে হবে এই এলাকা বিএনপি জামাতের আখড়া ছিল সেটা তছনছ করেছেন ফারুক চৌধুরী। এটা হয়তবা তাদের সহ্য হচ্ছে না। এজন্যেই সাংসদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন । কিন্তু কোন ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না। তাঁরা যতই ষড়যন্ত্র করবেন তৃনমুলে সাংসদের জনপ্রিয়তা ততই বাড়বে।#
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ : ভূমিমন্ত্রীর সংবাদ বর্জনের ঘোষণা
- » তানোরে একটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে দায় নিবে কে ?
- » তানোরে আলু চাষের ধূম
- » স্বর্ণ ব্যবসায়ী যখন ভূমিদূস্যু
- » রাজশাহী অঞ্চলে জঙ্গি উঙ্খান অভিযোগের তীর সাবেক মন্ত্রীর দিকে ?
- » প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে !
- » তানোর বিএমডিএ’র ইঁদুর-বেড়াল খেলা
- » ব্যারিস্টারের গলার কাঁটা শাহিন
- » তানোরে ময়না ক্যাবল নেওয়ার্কের উদ্বোধন
- » তানোরে সাঁওতাল পল্লীতে বিনামূল্য স্যানেটিশন সামগ্রী বিতরণ










Leave a Reply