আলিফ হোসেন,তানোর : রাজশাহীর তানোর উপজেলার দুটি বৃহত্তম ইউনিয়ন পাঁচন্দর ও বাধাইড় এবং মুন্ডুমালা পৌর এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠির নিরাপত্তার জন্য মুন্ডুমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য জনবল সংকটের পাশপাশি আবাসিক ও যানবাহন সংকটের কারণে তদন্ত কেন্দ্র নিজেই অনেকটা অনিরাপদ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। মুন্ডুমালা তদন্ত কেন্দ্রের কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের জরাজীর্ণ মুরগীর কুঠির মতো মাটির ঘরে জীবনের ঝুকি নিয়ে বসবাস করতে হয়। এসব ঘরের যে কোনো সময় মাটির দেয়াল ভেঙ্গে পড়ে ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিনিয়ত এমন আশঙ্কা নিয়ে তাদের বসবাস করতে হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, বিগত ২০০৬ সালে মুণ্ডুমালা পৌর সদরের ব্যক্তি মালিকানাধীন (শিউলি ভিলা) বাড়ি ভাড়া নিয়ে তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ প্রায় একযুগ অতিবাহিত হলেও মেলেনি নিজস্ব ভবন যেটি আছে সেটিও আনেক আগেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বসবাসের জন্যে কোনো আবাসিক ভবন নাই, নাই যানবাহন ও জনবল সংকট তো রয়েছেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, তানোর-মুণ্ডুমালা রাস্তার পার্শ্বে মুন্ডুমালা বাজার সংলগ্ন শিউলি ভিলা নামের দুই তলার নিচ তলায় দুটি দুটি ঘরে চলছে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের যাবতীয় কার্যক্রম। ঘরের সংলগ্ন মাটির ঘরের বারন্দায় মুরগির কুঠির মতো স্থানে বসবাস করছে এখানে কর্মরত কর্মকর্তা ও সদস্যরা যা রীতিমতো মানবেতর। ডিজিটাল বাংলাদেশে নোংরা অপরিস্কার এমন স্থানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি বসবাস করতে পারে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। মুণ্ডুমালা বাজার এলাকার বাসিন্দা তাসির উদ্দিন জানান এক সময় মুণ্ডুমালা বাজার ছিল মাদকের আড্ডাখানা। হিরোইন ফেন্সিডিল গাজায় ভরে উঠেছিল। কিন্তু পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থাকার কারনে অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে রয়েছে মাদক। তদন্ত কেন্দ্র না থাকলে মাদকে ছেয়ে যেত বাজার। অথচ পুলিশ সদস্যদের বসবাসের জায়গাটি বসবাসের অযোগ্য । সুস্থ ভাবে কাজ করতে হলে ঘুমের প্রয়োজন । সঠিক ভাবে ঘুম না হলে কাজে মন বসে না। তাদের বসবাসের জন্যে জরুরী ভিত্তিতে আবাসিক ভবনের প্রয়োজন। তদন্ত কেন্দ্রের আইসি (কর্মকর্তা) এসআই সিদ্দিকুর রহমান বলেন, থাকার জায়গায় বর্ষার মৌসুমে জমে থাকে পানি। শীতের মৌসুমে প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে বাস করতে হচ্ছে। যার ফলে অনেকেই বেশিদিন থাকতে ইচ্ছা পোষন করে না। সারাদিন কষ্ট করার পর রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারা যায় না। শুধু থাকার সমস্যা না সেবানিতে আসা লোক জনদের বসার জায়গা পর্যন্ত দেয়া যায় না মারাত্মক সমস্যা নিয়ে কেন্দ্র পরিচালনা করতে হচ্ছে বলে দুঃখ্য প্রকাশ করেন তিনি। এনিয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম বলেন কর্তৃপক্ষ জায়গা খুজছে পেলেই নিজস্ব ভবন তৈরী হবে। আসা করছি জায়গাও পাওয়া যাবে ও সমস্যার সমাধান হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ : ভূমিমন্ত্রীর সংবাদ বর্জনের ঘোষণা
- » তানোরে একটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে দায় নিবে কে ?
- » তানোরে আলু চাষের ধূম
- » স্বর্ণ ব্যবসায়ী যখন ভূমিদূস্যু
- » রাজশাহী অঞ্চলে জঙ্গি উঙ্খান অভিযোগের তীর সাবেক মন্ত্রীর দিকে ?
- » প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে !
- » তানোর বিএমডিএ’র ইঁদুর-বেড়াল খেলা
- » ব্যারিস্টারের গলার কাঁটা শাহিন
- » তানোরে ময়না ক্যাবল নেওয়ার্কের উদ্বোধন
- » তানোরে সাঁওতাল পল্লীতে বিনামূল্য স্যানেটিশন সামগ্রী বিতরণ










Leave a Reply