আলিফ হোসেন,তানোর
রাজশাহীর তানোরে বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে নানা অজুহাতে এসএসসির ফরম পুরণে গলাকাটা ফি আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অর্থলিপ্সার কারণে আইন করেও অতিরিক্ত টাকা আদায় প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষি প্রধান এলাকার অভিভাবকগণ ফরম পুরনে অতিরিক্ত টাকা দিতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের নভেম্বর মাস থেকে শুরু হয়েছে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফরম পুরন। এদিকে ফরম পুরনে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে একশ্রেণীর প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ নানা অজুহাতে দ্বিগুন টাকা আদায় করছে। আবার ফরম পুরুণে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হলেও কোনো রশিদ দেয়া হচ্ছে না। আর অভিভাবকগণ তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ করতে পারছেন না এমনকি প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা বিনা রশিদে আদায় করা যাবে না মর্মে উচ্চ আদালত রায় দিলেও মানছেন না স্কুল কর্তৃপক্ষ । এদিকে তিন মাস কোচিং বা অতিরিক্ত ক্লাস নেয়ার নামে অনেক স্কুল অতিরিক্ত দেড় থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, উপজেলার কলমা উচ্চ বিদ্যালয় , কিসমত বিল্লি, কলমা বালিকা বিদ্যালয়সহ ওই এলাকার অধিকাংশ স্কুল কোচিংয়ের নামে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা আদায় করছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। এদিকে দুবইল উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা জানান, এসএসসির ফরম পূরুণে কোচিং ফি সহ বিনা রশিদে প্রায় ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। উপজেলার কলমা বলিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী জানান বোর্ডের নির্ধারিত ফি থেকে এক টাকাও বেশি নেয়া হচ্ছে না। ক্লাস কোচিংয়ের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন কোন অতিরিক্ত টাকা আদায় হয়নি। এব্যাপারে দুবইল স্কুলের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন । কৃষ্ণপুর স্কুলে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হলেও প্রধান শিক্ষক অস্বীকার করেন । এবারে বোর্ড নির্ধারিত ফি মানবিকের জন্যে ১৪৫০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্যে ১৫৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে ।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, তানোরে স্কুল রয়েছে ৬০ টি ও মাদ্রাসা রয়েছে ২৮ টির মতো। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যাপারে কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে যে প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত টাকা আদায় করবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে । এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাঃ শওকাত আলী বলেন উপজেলায় অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে নির্দিষ্ট ভাবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হয়। আর এখন পর্যন্ত এমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কোচিং ও অতিরিক্ত ক্লাসের নামে যাতে টাকা আদায় না করতে পারে সে জন্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে ।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ : ভূমিমন্ত্রীর সংবাদ বর্জনের ঘোষণা
- » তানোরে একটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে দায় নিবে কে ?
- » তানোরে আলু চাষের ধূম
- » স্বর্ণ ব্যবসায়ী যখন ভূমিদূস্যু
- » রাজশাহী অঞ্চলে জঙ্গি উঙ্খান অভিযোগের তীর সাবেক মন্ত্রীর দিকে ?
- » প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে !
- » তানোর বিএমডিএ’র ইঁদুর-বেড়াল খেলা
- » ব্যারিস্টারের গলার কাঁটা শাহিন
- » তানোরে ময়না ক্যাবল নেওয়ার্কের উদ্বোধন
- » তানোরে সাঁওতাল পল্লীতে বিনামূল্য স্যানেটিশন সামগ্রী বিতরণ










Leave a Reply